Tourism or Parjatan Place of Narayanganj | Bangla 2 Printing View
Untitled Document
অবসর সময়ে ভ্রমণ করুন ও দেশ সম্পর্কে জানুন - পর্যটনবিডি.কম

Description AboutTourism or Parjatan Place of Narayanganj

এ পৃষ্ঠা থেকে ট্যুরিষ্ট বা পর্যটক নারায়ণগঞ্জ জেলার ভ্রমন তথ্য সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। যা তাদের ভ্রমনের ক্ষেত্রে কাজে আসবে। শুধু তাই নয় এখনকার প্রতিটি ভ্রমন স্থানের নামের সাথে একটি তথ্যবহুলভিডিও-এর হাইপারলিংক করা আছেযার মাধ্যমে ভিডিও দেখে স্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাবে ও ভ্রমণ সম্পর্কে তারা আগ্রহীহয়ে উঠবে।

সোনারগাঁও ও পানাম নগর

 

রাজধানী থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশে মোগড়াপাড়া। সেখান থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার উত্তরে প্রাচীন শহর সোনারগাঁও। বাংলার অন্যতম প্রাচীন রাজধানী। মুসলিম শাসকদের অধীনে পূর্ব বঙ্গের একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল এটি। প্রাচীন সুবর্ণ গ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব। এয়োদশ শতাব্দীর স্থানীয় হিন্দু রাজা দনুজ মাধব দশরথদের বিক্রমপুরে থেকে সুবর্ণ গ্রাম তাঁর রাজধানী স্থানান্তর করেন।

বঙ্গ অঞ্চল মুসলিম শাসনের অধীনে হওয়ার আগে পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল দক্ষিণ পূর্ববঙ্গের প্রাশাসনিক কেন্দ্র। শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহ চতুর্দশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এ অঞ্চল দখল করে লখনৌতি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। এর ফলে সোনারগাঁওয়ে স্বাধীন হিন্দু রাজত্বের অবসান ঘটে। এরপর ১৩২২ সালে গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহের ক্ষমতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে সোনারগাঁওয়ের গুরুত্ব কিছুটা কমে গেলেও এটি একটি বন্দর ও টাঁক শাল শহর হিসেবে পরিচিতি পায়।

১৩২৪ সালে গিয়াস উদ্দীন তুঘলক বাংলা অধিকার করে সোনারগাঁওকে পূর্ব বাংলার প্রাশাসনিক কেন্দ্রর মর্যাদা দেন। ১৩৩৮ থেকে ১৩৫২ সালে পর্যন্ত সোনারগাঁও ফখরউদ্দীন মোবারক শাহের স্বাধীন রাজ্য ছিল। ১৩৫২ সালে শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁও দখল করেন। আবার ঈশাখাঁ ও তাঁর বংশধরদের শাসনামলে সোনারগাঁও তাঁদের রাজধানী ছিল।

ঢাকায় মুঘল রাজধানী স্থাপনের পর থেকে সোনারগাঁওয়ের পতন শুরু হয়। সোনারগাঁও এলাকার প্রাচীন নিদর্শনগুলো আজো সুন্দরভাবে সাজানো আছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পানামা নগর, খাস নগর দিঘি, দুলালপুরে রনীলকুঠি, গোয়ালদী শাহী মসজিদ, আমিনপুর মঠ, দামো দরদী মঠ, বড় সরদার বাড়ি প্রভৃতি। পানাম এলাকায় এখনো টিকে আছে মুঘল আমলে নির্মিত ইটের তৈরি পানাম সেতু, দুলালপুর পুল এবং পানাম নগর সেতু।

পানাম নগরে আছে ছোট ছোট লাল ইটের বেশ কিছু পুরোনো বাড়ি। এ গুলোর বেশির ভাগের অবস্থানই শোচনীয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগড়াপাড়া থেকে পানাম নগরের দিকে নীল কুঠি পর্যন্ত পাকা সড়কটি ও প্রাচীন নিদর্শন।

দুলালপুর সেতুর আগে এ পাকা সড়কের পূর্ব দিকেই পানাম নগরের অবস্থান। প্রায় পাঁচ মিটার প্রশস্থ এবং ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়কের দু পাশে সুরম্য কিছু স্থাপনা নিয়ে পানাম নগর গড়ে উঠেছিল। সড়কের উত্তর পাশে ২১টি এবং দক্ষিণ পাশে ৩১টি মোট ৫২ টি পুরোনো বাড়ি এই ক্ষুদ্র নগরীর অন্যতম আকর্ষণ। পানাম নগরের চারপাশে কৃত্রিম খালদ্বারা সুরক্ষিত ছিল। পশ্চিম পাশের খালের সেতুটি পানাম নগরের প্রবেশ মুখ।

লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশন
 

সোনারগাঁওয়ে আছে সরকারি প্রতিষ্ঠান লোকও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। ১৯৭৫ সালে  এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। প্রায় চার হাজার তিনশটি নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এ জাদুঘরে। শনি থেকে বুধবার প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে এ লোক শিল্প জাদুঘরটি।

শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা, মাঝে ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহু বিরতির জন্য। বৃহস্পতিবার লোকশিল্প জাদুঘর বন্ধ থাকে। কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। এর মধ্যে আছে তিনটি বনভোজন কেন্দ্র। লেকে নৌভ্রমণেরও ব্যবস্থা আছে এখানে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে এখানে বসে লোক ও কারু শিল্প মেলা এবং লোকজ উৎসব। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের সব উপকরণ ও অনুষঙ্গ তুলে ধরা হয় এ উৎসবে।

গোয়ালদী শাহী মসজিদ

 

পানাম নগর থেকে  প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে নিরিবিলি গ্রামের মধ্যে দৃষ্টি নন্দন গোয়ালদী শাহী মসজিদ। বিশেষজ্ঞদের মতে মসজিদটি ১৫১৯ সালে নির্মিত। এক গম্বুজ বিশিষ্ট এ মসজিদটি বাইরে পোড়ামাটির অলঙ্করণে সমৃদ্ধ। পশ্চিম দেয়ালের অলঙ্কৃত মিহরাবটি পাথরের তৈরি।

বাংলার তাজমহল 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব এলাকায় আগ্রার তাজমহলের অবিকল অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে বাংলার তাজমহল। প্রায় পনের একর জায়গার ওপর সাদা রঙের এ তাজমহলে এলে অনেকেই ভুল করতে পারেন আগ্রার তাজমহল ভেবে।

দুই পথে যাওয়া যায় বাংলার তাজ মহলে। প্রথমত কাঁচপুর সেতু পেরিয়ে হাতের বাঁয়ে সিলেট মহাসড়কের বড়পা হয়ে সরাসরি তাজমহলে পৌঁছা যায়। দ্বিতীয় পথটি হল কাঁচপুর সেতু পেরিয়ে চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে মদনপুর থেকে হাতের বাঁয়ে গাজীপুরগামী সড়ক ধরে সরাসরি বাংলার তাজমহল।

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম

 

বারোদিতে রয়েছে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম। বাংলা ১১৩৭ সালে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম দিন জন্মাষ্টমীতে কোলকাতার চৌরাশি চাকালায় জন্ম গ্রহন করেন। তীর্থ যাত্রায় পায়ে হেঁটে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে তিনি আসেন নারায়ণগঞ্জের বারোদিতে। প্রবল আধ্যাত্মিক শক্তির কারনে ভক্তরা তাঁকে বাবা উপাধিতে ভূষিত করেন।

দীর্ঘকাল এখানেই অবস্থান করার পর তিনি ১২৯৭ সালেই ইহধাম ত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ও ভারতে বাবা লোকনাথ ভক্তের সংখ্যা অসংখ্য। শতশত ভক্তের পদচারণায় তাই প্রতিদিন মুখরিত থাকে আশ্রম প্রাঙ্গন। তবে এ আশ্রমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসবটি বসে কার্তিক মাসে। উৎসবটির নাম রাখের উপবাস। কার্তিক মাসের পনের তারিখের পর প্রতিশনি ও মঙ্গলবার হাজারো ভক্ত সমবেত হন এখানে।

সারা দিন উপবাস করার পরে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ঘিয়ের প্রদিপ জ্বেলে প্রার্থনায় মগ্ন থাকেন। প্রদিপ নিভে গেলে আহার করেন তারা। আশ্রমের পাশেই রয়েছে পশ্চিম বঙ্গের সাবেক মূখ্য মন্ত্রী জ্যোত্যি বসুর পৈতৃক বসত বাড়ি। দেখে নিতে পারেন এজায়গাটিও । ঢাকার গুলিস্তান পার্কের দক্ষিণ পাশ থেকে সরাসরি বারো দির বাস ছাড়ে। এছাড়া যে কোনো বাসে মোগড়া পাড়া এসে সেখান থেকে বেবি ট্যাক্সি করেও যাওয়া যায় বারোদি।


Page 1   Page 2

 

 

 

Important Tourism Information of Bangladesh

by md. abidur rahman | parjatanbd | A Home of Tourism | Information Written and Managed By :
 

Welcome